Basic Concepts Of Digital Marketing

Digital marketing – “Any form of marketing products or services that involves electronic devices”, Sounds simple doesn’t it?

But is it so simple? 

Yes it is, but there are more to digital marketing than just a single line of definition​.

Since the beginning of business, marketing has been involved in promoting products according to the consumer need. As we evolved with time, our marketing strategies adapted with the era. 21st century has seen a revolutionary change in marketing strategy.

But what is marketing actually?

There is no specific definition for marketing but predominantly it means the promotion and branding of specific products or companies to the general people. As of today majority of the media we consume comes through digital channels such as Facebook, Twitter, YouTube etc.

What is digital marketing then? Digital marketing is also marketing but with a touch of technology. The marketers have found more efficient way to promote their products or services than billboard marketing or newspaper marketing.

Facebook, twitter or YouTube has audiences far beyond than what previous   medias had, it is global not an area centric so marketers have tried to build the right strategy so the channels or medias could reach the audiences at the right place at the right time, isn’t that what marketing is all about?

Through digital marketing the companies can easily keep track of their audience or how much they have connected with their consumers.

Through the rise of digital marketing, new doors of opportunities have opened for business to draw out people towards their brand or product or services.

The digital marketing industry is substantially competitive and there are various digital marketing methods, some of these are Email marketing, social media marketing and Search engine marketing

Social media marketing (SMM)


Imagine a scenario, you’re watching an amazing video in facebook and suddenly an annoying ad pops up and interrupts your video and you are bound to watch that ad for 5-7 seconds. Yes that is what social media marketing or SMM is, using social media such as Facebook, twitter or others to promote and advertise their company or services.

Social media marketing is not only limited to ads, it also involves creating and sharing content on social media networks. Every post, likes, comments and replies serves a purpose.

Among the digital marketing methods, SMM is more personal to the audience because they can directly interact with the brand or company and also the brand/company can study the consumer behavior and get a good sense of idea what the consumers’ perspective on their company is

Email Marketing

Unlike SMM, Email marketing is more commercial. This form of marketing mostly helps to develop relationship with potential clients or customers.

For example, David went to a restaurant on his wedding anniversary with his wife, on the next anniversary the same restaurant sent a mail wishing the couple for their anniversary and offered a discount of 50% if they spend their anniversary here again.

This form of marketing is customer or client oriented and used for business purpose mostly.
However, there are downsides to it. At its best it keeps its customers informed up-to-date and at its worst it fills the spam box with rubbish and fake click bait emails

Search Engine Marketing(SEM)

SEM is a practice where business owners pays the search engine such as Google or Bing to advertise their business based on user’s search keywords. For example

SEM is one of the most efficient way to grow your business because it can attract traffic to your website very easily.

১৪টি অনলাইন বিজনেস আইডিয়া

১৪টি অনলাইন বিজনেস আইডিয়া

এই অনলাইনের যুগে একটি কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন থাকলে পুঁজি ছাড়াই আজ থেকেই আপনি ব্যবসায় নামতে পারেন। আসুন দেখে নেওয়া যাক এমন ১৪টি অনলাইন বিজনেস আইডিয়া।

০১. এসইও কনসালটেন্ট : আপনি কি সার্চ ইঞ্জিনের বিষয়ে অভিজ্ঞ? মানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে জানেন; কিন্তু কোথাও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠানের আশায় বসে না থেকে অনলাইনেই শুরু করুন এসইও সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া। অনেক প্রতিষ্ঠান পাবেন যারা আপনার পরামর্শ নেওয়ার জন্য বসে আছে। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স সাইটে এমন কাজ পাবেন। না হলে সোজা গুগল সার্চ দিন।

০২. বিজনেস প্রশিক্ষণ : আপনার ব্যবসা সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতেই পারে। কিন্তু পয়সার অভাবে নিজের স্বপ্ন অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না। আপনার এই অভিজ্ঞতা বসে বসে নষ্ট করার কোন মানে নেই।

অনলাইনে এমন অনেককে পাবেন যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাইছে। লিংকডইনে যান, সেখানে আপনি ব্যবসা সংক্রান্ত আর্টক্যাল লিখতে পারবেন। এর দ্বারা সেখানে আপনি অনেক ক্লায়েন্ট পাবেন। তাদের সদুপদেশ দিয়ে নিজের মেধা এবং অভিজ্ঞতা ঝালিয়ে নিতে পারবেন। সেই সঙ্গে টু-পাইস ইনকাম তো আছেই।

০৩. স্পেশালাইজড রিটেইলার : বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন দেশের সব বড় শহরগুলোতেই স্পেশালাইজড শপ বা সুপারশপ আছে। এদের মধ্যে অনেক ছোট বড় প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনলাইনে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রচার এবং বিজনেস শুরু করতে ইচ্ছুক। সেই সব প্রতিষ্ঠানের কোন একটির সঙ্গে চুক্তি করে আপনি তাদের পণ্যসম্ভার দিয়ে একটি অনলাইন শপ চালু করে ফেলতে পারেন। ঘরে বসে হয়ে যান রিটেইলার শপার।

০৪. সোশ্যাল মিডিয়া পরামর্শক : তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সোশ্যাল সাইটগুলো চরম উত্কর্ষ অর্জন করেছে। জীবনের সব সমস্যার সমাধান যেন হয়ে উঠছে ফেসবুকের মত মাধ্যমগুলো। নিত্য নতুন ফিচারের পাশাপাশি বাড়ছে সোশ্যাল সাইট হ্যাক করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার মত ঘটনা। আপনার যদি সোশ্যাল সাইটগুলোর ব্যবহারবিধি, নিরাপত্তাসহ ফ্রেন্ড-ফলোয়ার বৃদ্ধির বিভিন্ন ট্রিকস জানা থাকে হবে আপনি হয়ে যেতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়া কনসাল্টেন্ট। এমনটা করলে অনেক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ পেতে পারেন।

০৫. ওয়েব ডিজাইন : বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিজনেস এটা। এখন একটি ছোটখাট প্রতিষ্ঠানও চিন্তা করে তাদের একটা ওয়েবসাইট থাকা দরকার। আপনার যদি ওয়েব ডিজাইন জানা থাকে তবে বসে থাকার কোন মানে নেই। ফ্রিল্যান্স সাইটগুলোতে নিজের পোর্টফোলিও পোস্ট করুন। একটি নমুনা ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে রাখুন। বাজারদর বিবেচনা করে সাশ্রয়ী পারিশ্রমিক ঘোষণা করুন। আপনাকে আর ঠেকায় কে?

০৬. আবেদনপত্র/কভার লেটার লেখা : আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে অনেক শিক্ষিত মানুষ সুন্দর করে একটি চাকরির আবেদনপত্র লিখতে জানে না। কিন্তু চাকরিক্ষেত্রে একটি সুন্দর গ্রহণযোগ্য আবেদনপত্র কিংবা কভার লেটার অন্যদের সঙ্গে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আপনার এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকলে লিংকডইন কিংবা সোশ্যাল সাইটগুলোয় এই বিষয়ে ক্লায়েন্ট খুঁজতে পারেন। ক্লায়েন্ট যে পাবেন এতে কোন সন্দেহ নেই।

০৭. টাস্ক ম্যানেজার/সহকারী : আপনার যদি ভাল অর্গানাইজিং দক্ষতা থাকে তবে আপনি এই ব্যবসার উপযুক্ত। আপনি কি অনলাইনের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে পারেন? তবে আপনার এই দক্ষতা একজন ব্যাক্তিগত সহকারী কিংবা অনলাইন টাস্ক ম্যানেজার হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। TaskRabbit কিংবা Zirtual এর মত কোম্পানীগুলো টাকার বিনিময়ে আপনার মত মানুষকেই খুঁজে থাকে। এসব সাইটে আপনি ডাটা রিসার্চ, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট সহ বিভিন্ন কাজে সহকারীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

০৮. প্রফেশনাল ফ্রিল্যন্সার : ফ্রিল্যান্সিং বলতে সাধারণত অবসর সময়ের কাজকেই আমরা বুঝে থাকি। কিন্তু সময়ের পাশাপাশি ধারণাও পাল্টে গেছে। এখন প্রচুর বেকার তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিংকে মূল পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। আপনি চাইলে পার্টটাইম কাজও করতে পারেন। বেকার বসে না থেকে আজই যুক্ত হোন ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে।

০৯. অনলাইন মার্কেটিং : আপনি যদি আমাজানের মত সাইটগুলোতে পণ্যের রিভিউ লেখায় অভ্যস্ত থাকেন তবে এখনই তা বন্ধ করুন। কারণ বিনামূল্যে কেন আপনি কোন পণ্যের মার্কেটিং করবেন? ওয়ার্ড অব মাউথ-এর মত অনেক কোম্পানী আছে যারা নিজেদের প্রোডাক্ট অনলাইনে প্রমোট করার জন্য আপনাকে পয়সা দেবে। আপনার যদি প্রচুর ফলোয়ার সমৃদ্ধ সাইট কিংবা সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থাকে তবে তো সোনায় সোহাগা। আজই লেগে যান কাজে।

১০. ই-বুক লেখক : আপনার লেখালেখির হাত, ভাষার দক্ষতা এবং টাইপিং স্পীড যদি ভাল থাকে তবে আপনি অনায়াসে একজন ই-বুক রাইটার হতে পারেন। এটি অনেক সহজ একটা কাজ। ই-বুকের চাহিদা এত পরিমাণে বাড়ছে যে ই-বুক রাইটার খুঁজতে পাবলিকেশন্সগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অনলাইনে এমন গ্রাহক খুঁজে নিতে পারেন সহজেই।

১১. প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান : অনেক ছোটখাট কোম্পানী আছে যাদের কোন আইটি স্পেশালিস্ট নেই। তাদের প্রযুক্তিগত কোন সমস্যা হলে বাইরের লোক ডাকতে হয়। আপনি এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অনলাইনে বসেই শুরু করতে পারেন প্রযুক্তগত পরামর্শ প্রদান। সমস্যা হলে তারা আপনাকে জানাবে এবং আপনি ঘরে বসেই সমাধান দিয়ে দেবেন। আর কী চাই?

১২. ভার্চুয়াল চালান : শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এই কাজটি আপনি নিজেই অহরহ করে থাকেন ব্যাংক কিংবা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। আপনার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে সেখানে গুগল চেকআউটের মত ট্রানজেকশন হ্যান্ডল করতে পারেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের অনলাইন চালানসমূহ অর্গানাইজ করার জন্য আপনাকে খুঁজে নেবে। আপনি তাদের সাইট থেকে পণ্যের ছবি বিবরণ কপি করে নিজের ওয়েবসাইটে আনুন। তারপর নির্দিষ্ট আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে নেমে পড়ুন পণ্য বিক্রয়ে।

১৩. হস্তশিল্প বিক্রেতা : অটোমেটিক মেশিনের যুগে হস্তশিল্পের কদর মোটেই কমেনি। বরং প্রচারের অভাবে এই প্রাচীণ শিল্প মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না। আপনি এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন। তাদের পণ্য আপনি অনলাইনে বিক্রি করবেন। গ্রাহকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ নিয়ে আপনি কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন তাদের কাছে।

১৪. অ্যাপ ডেভলপার : স্মার্টফোনের যুগে অ্যাপের ছড়াছড়ি। মানুষ এখন কম্পিউটারে বসে সাইট ব্রাউজ করার চাইতে স্মার্টফোন অ্যাপেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন অ্যাপ ডেভলপিংয়ে আগ্রহী। আপনি যদি কোডিং সম্পর্কে ভাল জেনে থাকেন তবে লেগে পড়ুন অ্যাপ ডেভলপিংয়ে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন সফওয়্যার ডেভলপার কোম্পানীও অনলাইনে ডেভলপার চায়। প্রথমে নিজে একটি আকর্ষণীয় অ্যাপ তৈরি করে নমুনা হিসেবে দেখান এবং যৌক্তিক পারিশ্রমিক দাবি করুন। আপনার কাজ পাওয়া নিশ্চিত।

ই কমার্স /ড্রপ শিপিং বাজেট

ই কমার্স /ড্রপ শিপিং বাজেট –

আপনার বাজেট কত হওয়া উচিত ? ( আলি ড্রপশিপ )

আসসালামু আলাইকুম

প্রথমেই বলে নিচ্ছি এই টপিকে অনেক বিষয় আপেক্ষিক । স্থান ,কাল ,পাত্র ভেদে কম বেশি হতে পারে।

অনেকেই ধীর্ঘদিন ধরে স্টাডি করছেন বা সাইট লঞ্চ করার জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছেন।

তাদের পরবর্তী প্রশ্ন যেটা হয় যে, সাইট শুরুর জন্য বাজেট কত হওয়া উচিত ?

এখানে আমি একটি আইডীয়াল/আপেক্ষিক বাজেট দিচ্ছি ।

শপিফাই/ওয়ার্ডপ্রেস -আলিএক্সপ্রেস/চায়না /অন্যান্য – ড্রপশিপিং মডেল

আনুমানিক খরচ সমূহ —

১। ওয়েব সাইট ডেভেলপমেন্ট –

যদি আপনি শপিফাই তে স্টোর করেন । তাহলে আপনাকে প্রতি মাসে চার্জ দিতে হবে। আর ব্যাসিক অপ্টিমাইজেশন এর জন্য ১০০-২০০ ডলার বাজেট রাখতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস- ওয়ার্ডপ্রেস ইকমার্স সাইট এর জন্য ২০০-৫০০/১০০০ ডলার ও বাজেট হতে পারে। কাজকে সহজ করার জন্য কিছু পেইড প্লাগিন কিনতে পাওয়া যায়। যেমন আলি ড্রপশিপ।

নোট- আপনার যদি এই রিলেটেড জ্ঞান থাকে অথবা ইউটিউব দেখেও সেট করতে ট্রাই করতে পারেন। তাহলে খরচ শুন্য।

সতর্ক বার্তা- আপনি যদি নুন্যতম ৬ মাস শপিফাই স্টোর বিনা লাভে কন্টিনিউ না করতে পারেন। আপনি ধরে নিতে পারেন আপনি এখন ও এই ইন্ডাস্ট্রিতে জয়েন করার আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করেন নাই। আরো সময় নিন।

২। এড বাজেট – যেহেতু আপনার টা ব্রান্ডেবল সাইট ।তাই প্রমোশন আপনার নিজেকে করতে হবে। আপনি যদি ফ্রি ট্রাফিক এক্সপার্ট হন । তাহলে ত কোন কথা নাই। তবে ৯০% স্টোর পেইড ফেসবুক এবং গুগল শপিং এড, ইন্সট্রাগ্রাম এবং রেডিট মার্কেটিং করে থাকেন। আপনার প্রতিটা প্রোডাক্ট টেস্ট করার জন্য অন্তত ১০০-১৫০ ডলার এড বাজেট থাকা উচিত ,৫০০ ডলার রিকমেন্ডেড। আমি ধরে নিচ্ছি আপনি প্রোডাক্ট রিসার্চে কোন ভুল করেন নাই।

৩। প্রোডাক্ট কস্ট- বেশির ভাগ ড্রপ শিপার ভাবে যে সে কাস্টমার এর টাকা দিয়ে প্রোডাক্ট কিনে লাভ টা রেখে দিবে । আহ কত মজা। যদি আপনার কনসেপ্ট এইটা হয় । আপনি এখন ও নাদান বাচ্চা রয়ে গেছেন। আপনার কাস্টমার অর্ডার করার ৩৮-৭২ ঘন্টার মধ্যে অবশ্যই আপনাকে প্রোডাক্ট অর্ডার করতে হবে । আপনি যে গেটওয়েই ইউজ করেন না কেন । তারা আপনাকে কোন ভাবেই এত দ্রুত পেমেন্ট রিলিজ করবে না। (শুধুমাত্র পুরাতন পেপেল একাউন্ট এর ক্ষেত্রে ভিন্নতা আছে।

অন্যদিকে আপনার সাপ্লাইয়ার যদি আলি থেকে হয় , আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে অন্য মাধ্যমে । তাই আপনার প্রোডাক্ট এর যে বায়িং প্রাইস, নুন্যতম ১০-৫০ ইউনিট প্রোডাক্ট ক্রয়ের টাকা হাতে রাখুন । আপনার সেল ভলিউম বেশি হলে আরো বেশি।মনে রাখবেন স্টোর এর প্রথম দিকে যদি কাস্টমার সাথে ঝামেলা হয় । আপনার এই স্টোর কে উপরে তোলা কস্টকর হয়ে যাবে।

টিপস- স্টোরের প্রথম দিকে সেল একটু স্লো রাখবেন । তাহলে ইনভেস্টমেন্ট কম লাগবে । যখন কাস্টমারের টাকা হাতে আশা শুরু হবে । তখন স্কেল করতে পারেন।

৪। গেটওয়ে – এইটা সম্ভবত সব চাইতে চ্যালেঞ্জিং যায়গা । এবং এইটা নিয়ে দেশকে দোষ দিয়ে লাভ নেই🤐। গেট ওয়ে হিসেবে সব চাইতে পপুলার হল পেপেল ও স্ট্রাইপ । যেটার কোন টাই আমাদের দেশে নাই😒🙄 । তবে বেশি দুঃখিত হওয়ার কিছু নাই । আপনি একাই হতভাগা নন । পেপেল নাই এই রকম দেশের সংখ্যা ২৪ টি । আরো বড় হতভাগা কিছু দেশ আছে। যেখানে পেপেল আছে কিন্তু রিসিভিং ডিসাবল। মানে কারো থেকে পেমেন্ট রিসিভ করতে পারবে না এই রকম দেশের সংখ্যা ৮৫ টি । তার মানে পেপাল দিয়ে বিজনেস করতে পারবে না এই রকম হতভাগ্য দেশের সংখ্যা ১০৯ ।

আর স্ট্রাইপ মাত্র ৩৪ টি দেশে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে । তবে স্ট্রাইপ ছাড়াও আরো অনেক কোম্পানি আছে। তবে সে গুলো ও বাংলাদেশী একসেপটেন্স নাই।

তবে কি আমরা থেমে যাবে।
অবশ্যই না -where there’s a will there’s a way.

কিভাবে গেটওয়ে সলিউশন করব –

✔️ক্রেডিট কার্ড প্রসেসিং এর জন্য প্রথমে 2CO তে ট্রাই করুন। এক্সেপ্টেন্স রেট-১০% বা তার কম। পয়েন্ট টু বি নোটেড- বাংলাদেশি কোন গেটওয়ে গ্লোবাল ইকমার্স সাপোর্ট করে কিনা আমার জানা নাই।

✔️পরিচিত কেউ এক্সেপ্টেড কান্ট্রিতে থাকলে তার সাহায্য নিতে পারেন।অথবা পার্টনারশিপ করতে পারেন। এক্ষেত্রে তার সাথে অবশ্যই বিজনেস এর টার্মস এবং প্রফিট শেয়ার কিভাবে করবেন ,করলে কত টুকু ইত্যাদি ক্লিয়ার করে নেন। অবশ্যই হাই ট্যাক্স কান্ট্রি যেমন অস্ট্রলিয়া ,ফ্রান্স এবং ইউরোপিয়ান আরো কিছু দেশিয় পার্সোনাল একাউন্ট এড়িয়ে চলা উচিত। কারন ঐ গুলোতে ট্যাক্স রেট বেশি। যেটা হয়তবা আপনি দিতে চাইবেন না।

✔️এই নিয়ে আমাদের একটি সার্ভিস আছে । লাস্ট অপশন হিসেবে নিতে পারেন।আপনার যদি স্টোর কে আগামি ৩-৬ মাসের মধ্যে ৫ হাজার ডলার সেল আনার মত প্ল্যান ,অর্থ ইত্যাদি থাকে । তাহলেই এই রাস্তায় আসবেন । অন্যথা দূরে থাকুন।কারন খরচ প্রায় ৫৫০-৫৮০ ডলার ।

৯০% গ্লোবাল এন্টারপ্রেনার যাদের দেশে ফ্যাসিলিটি নেই। তারা কোন না কোন ভাবে এইটা ম্যানেজ করতেছেন। এই জাতীয় কোন সলিউশন ঈ

সতর্ক বার্তা –

❌স্টেলথ /ফেক পেপেল দিয়ে ড্রপ শিপিং সাইট লঞ্চ করবেন না। কারন একবার ডোমেইন ব্লাক লিস্টেড হলে তখন লিগ্যাল পেপেল ও আবার লিমিট করবে।

❌১০০-৩০০ ডলার দিয়ে যে স্ট্রাইপ একাউন্ট গুলো বিক্রি হয় । ভূলেও কিনতে যাবেন না। কেন এই কথা বললাম কিনে ধরা খাওয়ার পর আশা করি বুঝতে পারবেন।

পরবর্তি পোস্ট- ইবে বা ইটসি/নিজস্ব প্রিন্ট অন ডিমান্ড সাইট এর বাজেট।

পোস্টে কোন ভুল হলে ক্ষমা করবেন এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করুন । আমি আপডেট করে দিব।

ধন্যবাদ

Post Credit: Abdullah Al Mamun

SUCCESS STORY : $4000 WITHIN 60 DAYS WITHOUT ANY INVESTMENT

ফ্রি ট্রাফিকে কাজ করে ২ মাসে ৪০০০ তার মধ্য একদিনে ১০০০ ডলার ইঙ্কাম করেন গিয়ারলঞ্চে কাজ করে । ভিডিও থেকে উনার গল্প শুনুন আরও অনেক নতুন সাকসেস স্টোরি আসছে সামনে । আপনি নিজেকে সেখানে জায়গা করে নিন ।

রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড: বুক রিভিউ

রিচ ড্যাও পুওর ড্যাড বই এর বুক রিভিউ:

পুরো বইতে রবার্ট কিওসাকি মূলত তাঁর নিজের বাবা (পুওর ড্যাড) ও তাঁর বন্ধু মাইক এর বাবা (রিচ ড্যাড) এর দুই ধরনের চিন্তা ও কাজ কারবারকে তুলনা করেছেন।

পুওর ড্যাড দারুন শিক্ষিত ও সম্মানিত একজন মানুষ হলেও, তিনি আসলে মধ্যবিত্ত চিন্তায় আটকে ছিলেন। অন্যদিকে রিচ ড্যাড ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের মত করে চিন্তা করতে পারতেন।  তিনি ঝুঁকি নিতে ভয় পেতেন না।

রিচ ড্যাড যখন রবার্টকে শিক্ষা দেয়া শুরু করেন, তিনি কিন্তু তখন ধনী ছিলেন না।  একটি ভা‌ঙাচোরা বাড়িতে, স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে তিনি থাকতেন।  তখন তিনি কেবল তাঁর কাজ শুরু করেছিলেন।

এই কারণে রবার্ট ও মাইক রিচ ড্যাডের ধনী হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া চোখের সামনে দেখেছিলেন, সেই সাথে রিচ ড্যাড প্রায়ই দুই ছেলেকে ধনী হওয়ার বিষয়ে লেকচার দিতেন।  তিনি বলতেন, স্কুল কলেজের শিক্ষা অবশ্যই দরকার আছে।  এই শিক্ষা মানুষের চিন্তা ভাবনাকে শক্তিশালী করে, কিন্তু এর সাথে আর্থিক শিক্ষাও দরকার।  সত্যিকার আর্থিক শিক্ষা না থাকলে একজন মানুষ সারাজীবন অন্যের চাকর হয়ে কাটাবে। তার জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অন্য মানুষ ধনী হবে, কিন্তু সে নিজে ধনী হতে পারবে না।

রিচ ড্যাডের মত পুওর ড্যাডও রবার্ট কিওসাকিকে জীবনে বড় হওয়ার বিষয়ে লেকচার দিতেন।  সেসব ছিলো ভালো শিক্ষা অর্জন করে একটি নিরাপদ চাকরি পাওয়ার বিষয়ে।  পুওর ড্যাড ছেলের সাথে টাকা পয়সা বিষয়ে আলোচনা করতে চাইতেন না।  অন্যদিকে রিচ ড্যাড ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের টাকা পয়সার বিষয়ে সচেতন করার পক্ষে ছিলেন।

এই দুইজন বাবার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বইয়ের পুরো একটা চ্যাপ্টারই আছে।  চলুন আগে সেই চ্যাপ্টার অনুসারে দুই বাবার চিন্তার ধরণ আরেকটু ভালো করে জানি।

পুওর ড্যাড (গরিব বাবা):

গরিব বলতে যা বোঝায়, পুওর ড্যাড সেই অর্থে গরিব ছিলেন না।  তিনি একটি সরকারি চাকরি করতেন, এবং তাঁর মাসিক আয় যথেষ্ঠ ভালো ছিল।  কিন্তু তিনি তাঁর মধ্যবিত্ত মানসিকতার কারণে, সেই টাকা কাজে লাগিয়ে বড় কিছু করতে পারেননি।  সারাটা জীবন তাঁর টাকা নিয়ে টেনশন করেই কেটেছে।

এই চরিত্রটি আসলে সেইসব কোটি কোটি বাবার চরিত্র, যাঁরা নিজের সন্তানকে ভালোমত পড়াশুনা করে একটি ভালো চাকরি করতে উ‌ৎসাহ দেন।

পুওর ড্যাড এর চাওয়া ছিল, রবার্ট যেন ভালোমত পড়াশুনা শেষ করে একটি ভালো কোম্পানীতে বা সরকারের হয়ে কাজ করেন।   রবার্ট যখন একটি ভালো কোম্পানীর মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায় নামলেন, তখন পুওর ড্যাড খুবই হতাশ হয়েছিলেন।

পুওর ড্যাড শিক্ষাকে দেখতেন সফল হওয়ার টিকেট হিসেবে। তাঁর একটি ডক্টরেট ডিগ্রী ছিল, এবং তিনি সব সময়ে বলতেন, “টাকার ব্যাপারে আমার কোনও আগ্রহ নেই”, “টাকা কোনও জরুরী জিনিস নয়”।   তিনি আরও বলতেন, “পৃথিবীর সব খারাপের মূলে আছে টাকা”।

কিন্তু সত্যি কথা বলতে, তিনি সারাটা জীবন টাকার জন্যই কষ্ট করেছেন, কিন্তু কোনওদিনই যথেষ্ঠ টাকা হাতে রাখতে পারেননি।

রিচ ড্যাড (ধনী বাবা):

লেখক তাঁর বই এর ভেতরে লিখেছেন, ৯ বছর বয়সেই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর নিজের বাবার চেয়ে রিচ ড্যাডের কথাগুলো অনেক বেশি সঠিক।

পুওর ড্যাড কোনওকিছু দিতে না পারলে বলতেন, “আমার পক্ষে এটা দেয়া সম্ভব না”; আর রিচ ড্যাড বলতেন, “এটা দেয়ার জন্য কি করা যায়?”।  রিচ ড্যাড ছিলেন আশাবাদী ও সাহসী একজন মানুষ। 

রিচ ড্যাড বিশ্বাস করতেন, যদি একজন মানুষ চাকরিও করে, তবুও সে যেন নিজের জন্যই কাজ করে।   তাহলেই সে উন্নতি করতে পারবে।  চাকরিকে শুধু টাকা কামানোর উপায় হিসেবে না দেখে, কাজ শেখার জায়গা হিসেবে দেখতে হবে।  তাহলেই সে সত্যিকার কাজ শিখতে পারবে, এবং পরে সেই দক্ষতা নিজের কাজে লাগাতে পারবে।

দামী কোনওকিছু দরকার হলে নিজেকে বলা যাবে না যে, “আমি এটা কিনতে পারবো না” ।  তার বদলে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, “এটা কিনতে হলে আমাকে কি করতে হবে?”

তিনি বলতেন, ধনী হতে হলে প্রথমেই সাহসী আর আশাবাদী হতে হবে।  তোমার লক্ষ্য থাকবে, টাকার জন্য যেন অন্য কোনও মানুষের ওপর তোমাকে নির্ভর করতে না হয়।

নিজেকে এমন ভাবে গড়তে হবে, যেন টাকার জন্য মানুষ তোমার ওপর নির্ভর করে।  নিজের পকেটে অল্প টাকা ভরে অন্যের পকেটে অনেক টাকা ভরার বদলে, অন্যের পকেটে অল্প টাকা দিয়ে নিজের পকেটে বেশি টাকা রাখার চেষ্টা করতে হবে।  পুঁজিবাদ খারাপ কিছু নয়, যাদের নিজের চেষ্টায় কিছু করার যোগ্যতা নেই, তারাই পুঁজিবাদকে খারাপ বলে।  চাইলে যে কেউ পুঁজিবাদকে কাজে লাগিয়ে বড়লোক হতে পারে।  কিন্তু সেই কষ্টটা বেশিরভাগ মানুষ করতে চায় না।  আর এইসব স্কুল কলেজেও শেখানো হয় না।

তাঁর মতে, গরীবরা সারাজীবন গরীব থেকে যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো, তারা সব সময়ে টাকার জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করে।  তারা বিশ্বাস করে ধনীর টাকায় তাদের অধিকার আছে; এবং যাদের বেশি টাকা, তাদের উচি‌ৎ সেই টাকা থেকে গরিবদের সাহায্য করা।  যদিও এটা ধনীদের দায়িত্ব।  কিন্তু এই চিন্তার কারণে গরিবরা নিজের চেষ্টায় ধনী হওয়ার কথা ভাবে না।  তাই কাজও করে না, ধনীও হয় না।

তিনি বলতেন “টাকার অভাবই হলো পৃথিবীর সব খারাপের মূল”। 

৬টি মূল লিসন বা শিক্ষা:

পুরো বইটিতে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানসিকতা থেকে বের হয়ে ধনী মানসিকতা তৈরীর জন্য মোট ৬টি লিসন বা শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

লিসনগুলো হলো:

০১. ধনীরা টাকার জন্য খাটে না, টাকা তাদের জন্য খাটে

০২. আর্থিক শিক্ষা কেন প্রয়োজন

০৩. নিজের ব্যবসা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে

০৪. ট্যাক্স এবং কর্পোরেশনের ব্যবহার

০৫. ধনীরা কিভাবে টাকার জন্ম দেয়

০৬. টাকার জন্য কাজ করার বদলে শেখার জন্য কাজ করা কেন প্রয়োজন

এই ৬টি লেসন লেখক মোট ১০টি চ্যাপ্টার বা অধ্যায়ে দিয়েছেন।  চলুন এই বই এর মূল বিষয় ও শিক্ষাগুলো সারাংশ আকারে দেখি:

যেভাবে শুরু হলো:

বইয়ের শুরুতে রবার্ট কিওসাকি গল্পের মত করে দুই বাবার মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছেন। দুই বাবার মধ্যে যে তুলনা আমরা এই লেখার প্রথমে দিয়েছি – সেটাই আসলে প্রথম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু।  তবে গল্পটা কিভাবে শুরু হলো, সে বিষয়ে একটু ধারণা নিয়ে নেয়া যাক:

রবার্ট কিওসাকি ও তাঁর বন্ধু মাইক যখন স্কুলে পড়তেন, তখন দেখতেন, তাঁদের সহপাঠীদের পোশাক আশাক, নতুন সাইকেল, গাড়ি – ইত্যাদি সবই ধনীদের মত।  তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, ধনী হতে গেলে অনেক টাকা দরকার।

রবার্ট তাঁর নিজের বাবা, অর্থা‌ৎ পুওর ড্যাডকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “কিভাবে টাকা বানানো যায়?” – রবার্টের বাবা জনাব কিওসাকি সিনিয়র, এই কথা মাইকের বাবাকে জিজ্ঞেস করতে বলেছিলেন।  কারণ তিনি জানতে পেরেছিলেন, যদিও মাইকের বাবা মানে আমাদের ‘রিচ ড্যাড’ তখনও অতটা বড়লোক হননি, কিন্তু তাঁর কাজ কারবারে বোঝা যাচ্ছিল তিনি এক সময়ে সেই অঞ্চলের সেরা ধনী হতে চলেছেন (এবং তা তিনি হয়েছিলেন)।

রিচ ড্যাড

৯ বছরের বালক মাইক ও রবার্ট মিলে মাইকের বাবার সাথে দেখা করে তাদের ধনী হওয়ার ইচ্ছার কথা জানায়, রিচ ড্যাড নিজের ছেলে মাইক, ও ছেলের বেস্ট ফ্রেন্ড রবার্টকে শেখাতে শুরু করেন।  এবং তখন থেকে রবার্ট কিওসাকি তাঁর বাবা মি.কিওসাকি সিনিয়রের সাথে রিচ ড্যাডের পার্থক্যগুলো বুঝতে শুরু করেন।  সেই সাথে বুঝতে শুরু করেন ধনী মানুষ আর সাধারণ মানুষের কাজ ও চিন্তা করার ধরন অনেক আলাদা। 

লিসন ০১: “ধনীরা টাকার জন্য খাটে না, টাকা তাদের জন্য খাটে”

এই অধ্যায়েই মূলত লেখকের শিক্ষা শুরু হয়েছিল।  রবার্ট ও তাঁর বন্ধু মাইককে রিচ ড্যাড তাঁর সুপার শপে কাজ করতে দেন।  তাঁদের পেমেন্ট ছিল খুবই কম।  কয়েকদিন কাজ করার পর রবার্ট ও মাইক বুঝতে পারে তাদের খাটনির তুলনায় রিচ ড্যাড খুবই কম টাকা দিচ্ছেন।

এটা নিয়ে তাদের বেশ মন খারাপ হয়, এবং তারা রিচ ড্যাডকে এই কথা বলে।  শিশু রবার্ট কিওসাকি এবং মাইক আসলে বুঝতে পারেননি যে, তাঁদের একটি মূল্যবান শিক্ষা দেয়ার জন্য রিচ ড্যাড এমনটা করেছিলেন।  রিচ ড্যাড তাদের দুইজনকে দু’টি অফার দেন।  হয় তাঁরা ১০ ডলার-প্রতি ঘন্টায় চাকরি করবে, আর নাহয়, তাঁর জন্য ফ্রি কাজ করবে।

তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে এখন যদি ১০ ডলার-প্রতি ঘন্টায় তারা কাজ করে, তবে তারা সারা জীবন অন্যের জন্য খাটবে।  আর যদি তারা নিজেদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে পারে, তবে তারা একদিন বহু লোককে খাটাতে পারবে

৯ বছরের দু’টি ছেলের কাছে সেই সময়ে ১০ ডলার মানে বিশাল ব্যাপার।  কিন্তু রবার্ট ও মাইক এর ভেতরে লুকানো শিক্ষাটা বুঝতে পারে এবং ফ্রিতে কাজ করবে বলে ঠিক করে। 

পরে রিচ ড্যাড তাদের বোঝান যে, মানুষ দুই ভাবে বাঁচতে পারে।  এক, জীবন তাদের যেভাবে যেদিকে নিয়ে যাবে – সেদিকে চলে; দুই, নিজের পথ নিজে করে নিয়ে।

জীবন সব সময়েই মানুষকে নিয়ে খেলবে।  কিন্তু কিছু মানুষ এই খেলাটা ধরার চেষ্টা করে, এবং নিজে কোন দিকে যাবে – সেই সিদ্ধান্ত নিজেই নেয়।

গরীব ও মধ্যবিত্তরা কাজ করে লোভ আর ভয় থেকে।  অন্যদিকে ধনীরা এই দু’টোকে জয় করে।  তারা অনেক দূরের চিন্তা করতে পারে।  একটা ভালো বেতনের চাকরি হলেই যেখানে গরীব আর মধ্যবিত্তরা মহা খুশি হয়; ভবিষ্যতে যে লোকটি ধনী হবে, সে এতটা খুশি হয় না।

যার মধ্যে ধনী হওয়ার গুণ আছে, সে অনেক ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়।  একটি কাজ করার ফলে দীর্ঘমেয়াদে তার জীবনে কি প্রভাব পড়বে – তা সে ভেবে দেখে। 

যে লোকটি গরিব আর মধ্যবিত্ত হয়ে জীবন কাটাবে, সে বেশিরভাগ সময়ে নিরাপত্তা খোঁজে। অন্য দিকে যে লোকটি ধনী হয়ে জীবন কাটাবে, সে সব সময়ে সুযোগ খোঁজে। 

গরিব আর মধ্যবিত্তরা বড় কোনও সুযোগ সামনে আসলে যখন ঝুঁকি নেয়ার ভয়ে পিছিয়ে যায়, ধনীরা বা ভবিষ্যতে যারা ধনী হবে – এমন মানুষেরা সেইসব সুযোগকে কাজে লাগায়।

গরিব আর মধ্যবিত্তরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে সামনে পড়ে থাকা সুযোগকেও অনেক সময়ে দেখতে পায় না।

যার মধ্যে ধনী হওয়ার মানসিকতা আছে, সে সব সময়ে চেষ্টা করে কিভাবে টাকার জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করা বন্ধ করা যায়।  তারা সব সময়ে বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজে, যাতে করে টাকা তাদের জন্য কাজ করে।  টাকার জন্য যেন তাদের খাটতে না হয়। 

যে মানুষটি সত্যিই ধনী হতে চায়, সে সব সময়েই সুযোগ খোঁজে এমন কিছু করার, যা তার ঘুমের মধ্যেও তার জন্য টাকা আয় করবে।   ইংরেজীতে একে বলে “Passive income” – লেখক বই তে বহুবার এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

একজন মানুষের মানসিকতাই যদি হয়, একটি ভালো চাকরি করে স্বচ্ছল জীবনযাপন করা, এবং চাকরির শেষে ভালো একটি পেনশন পাওয়া – তারা কখনওই সত্যিকার অর্থে ধনী হতে পারবে না।

টাকা যদি আপনার জন্য না খাটে, অর্থা‌ৎ টাকা দিয়ে যদি টাকা আয় না হয় – তবে আপনার হাতে যতই জমানো টাকা থাক, আর ভালো চাকরি থাক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ভয় সব সময়ে আপনার ঘুম হারাম করবে। 

কাজেই, প্রথম লিসন হচ্ছে, টাকার জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসা।  এমন একটি মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে করে আপনার মন সব সময়েই বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজে।  যে বিনিয়োগের ফলে আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও সেই টাকা আপনার জন্য আরও টাকার সৃষ্টি করবে।

লিসন: ০২. আর্থিক শিক্ষা কেন প্রয়োজন

মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে ছেলেমেয়ের সামনে টাকা পয়সা নিয়ে আলোচনা করা হয় না।  তারা টাকা পয়সার বিষয়ে কোনও মন্তব্য বা প্রশ্ন করলে তাদের জবাব দেয়া হয়, “তোমাকে এসব নিয়ে ভাবতে হবে না, তুমি পড়াশুনায় মনোযোগ দাও/খেলতে যাও”

আর দরিদ্র পরিবার গুলোতে ছেলেমেয়ের সামনে শুধু টাকা পয়সার অভাব নিয়েই কথা হয়। গঠন মূলক কথা বলা হয় না।

শুধুমাত্র অভিভাবকদের এইসব আচরণের কারণে ছেলেমেয়রা বাস্তব জীবনে গিয়ে দারুন বিপদে পড়ে।

সেইসব ছেলেমেয়েই বাবা-মা’র টাকা নষ্ট করে বা উড়িয়ে দেয়, যারা টাকার মর্ম বোঝে না।  আর এই না বোঝার জন্য তাদের বাবা-মায়েরাই দায়ী।

রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বই, বুক রিভিউ

বাবা-মা, বা স্কুল এই বিষয়ে তাদের কিছুই শেখায় না, তাই তারা টাকা পয়সার গুরুত্ব বোঝে না, টাকা পয়সা কিভাবে ম্যানেজ করতে হয় – সেটাও বোঝে না।  এবং এই কারণে তারা সারাটা জীবন টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলায় থাকে।

হয়তো তারা ভালো বেতনের চাকরি করে, কিন্তু কিছু বেসিক মানি ম্যানেজমেন্ট না জানার কারণে তারা সেই টাকা ঠিকমত কাজে লাগাতে পারে না, এবং সেই কারণে সত্যিকার ধনী হতে পারে না।

এমন বহু মানুষই আছেন, যাঁরা সারা জীবনে অনেক টাকা আয় করেছেন, কিন্তু শেষ জীবনে টাকার অভাবে পড়েছেন।  এর একটি প্রধান কারণই হচ্ছে তাঁদের আর্থিক শিক্ষার অভাব।

অন্যদিকে ধনী বাবা’মায়েরা অল্প করে হলেও ছেলেমেয়েদের টাকা পয়সার বিষয়ে সচেতন করে তোলেন।  বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা তাঁদের সন্তানদের টাকা পয়সার বিষয়ে সচেতন করে তোলেন, কারণ তাঁদের মাথায় থাকে যে এই ব্যবসা একদিন তাঁর সন্তানকেই সামলাতে হবে।

রিচ ড্যাড, অর্থা‌ৎ মাইক এর বাবা এমনিতেই নিজের ছেলেকে এসব বিষয় শিক্ষা দিতে চাচ্ছিলেন – রবার্ট কিওসাকি’র সৌভাগ্য যে তিনি এই শিক্ষায় শামিল হতে পেরেছিলেন। 

মাইক বর্তমানে তাঁর বাবার বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য খুব ভালোভাবেই সামলাচ্ছেন।  রিচ ড্যাড তাঁর কোম্পানীকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন, মাইকের হাতে সেই অবস্থার আরও উন্নতি হয়েছে।  রবার্ট এই অধ্যায়ে লিখেছেন যে, মাইক এখন তাঁর বাবার মত করেই তাঁর নিজের ছেলেকে ব্যবসা শেখাচ্ছেন।

রবার্ট কিওসাকি তো আজ নিজের চেষ্টায় বিশাল সম্পদের মালিক।  বর্তমানে দারুন আয়েশী জীবনযাপন করেন তিনি।  ঘরে বসে থেকেই তাঁর মাসে প্রায় মিলিয়ন ডলার আয় হয়। 

সত্যিকার সম্পদ ও দায়:

কিওসাকি লিখেছেন, সাধারণ মানুষ যেভাবে সম্পদ ও দায় কে বিচার করে, ধনীরা তেমনটা করে না।  এই শিক্ষা কোনও বইতে দেয়া হয় না।  একজন শিক্ষিত চার্টার্ড এ্যাকাউনটেন্টও অনেক সত্যিকার সম্পদকে দায় এবং সত্যিকার দায়কে সম্পদ হিসেবে দেখেন।  কারণ, বইগুলোতে এভাবেই লেখা আছে। 

কিন্তু বাস্তব জীবনে বইয়ের অনেক কথাই ভুল প্রমাণ হয়।  সাধারণ হিসাব বিজ্ঞানে, একজন মানুষের অফিসে বা বাড়িতে যদি দামী শো-পিস থাকে, তাকে সম্পদ হিসেবে ধরা হয়।  কিন্তু সত্যি কথা বলতে এটা এক ধরনের দায়।

মার্বেল পাথরের একটি মূর্তি আপনি যত টাকা দিয়ে বানাবেন, বেচতে গেলে তার অর্ধেকও পাবেন না।  যদি সেটা এ্যান্টিক ধরনের কিছু হয়, তবে আলাদা কথা।  কিন্তু শখের জিনিস কখনও সম্পদ হতে পারে না।  কিন্তু হিসাব বিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোও সম্পদ।  আসলে এগুলো শুধু জায়গা দখল করে রাখছে।  এর থেকে কোনও আয় হচ্ছে না।

অন্যদিকে আপনার যদি একটি ব্যক্তিগত মিউজিয়াম থাকে, এবং আপনি সেই মিউজিয়ামে বিভিন্ন ধরনের এ্যান্টিক শো পিস, মূর্তি ইত্যাদি রাখেন – এবং লোকজন টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সেগুলো দেখে – তাহলে সেগুলো অবশ্যই আপনার সম্পদ।

তার মানে, যেসব জিনিস আপনার জন্য আয় করে, সেগুলোই শুধুমাত্র সম্পদ, অন্য সবকিছু দায় অথবা খরচ। 

এই অধ্যায়ে কিওসাকি সত্যিকার সম্পদ ও দায় বুঝতে পারার দক্ষতার ওপর জোর দিয়েছেন।  একজন মানুষ যদি সত্যিকার ব্যবসায়ীর মত করে সম্পদ আর দায়কে আলাদা করতে না পারেন, তবে তিনি সেগুলো ব্যবহার করে ধনী হতে পারবেন না।

কিওসাকি লিখেছেন, এমন অনেক খেলোয়াড়, লটারী বিজয়ী, শিল্পী, চাকুরে আছেন যারা নিজের পেশা থেকে বহু অর্থ আয় করার পরও সেই টাকা দিয়ে কিছু করতে পারেননি।  অনেকে টাকা পাওয়ার আগে যতটা গরিব ছিলেন, টাকা পাওয়ার পর আরও গরিব হয়ে যান।

এর প্রধান কারণ, তাঁরা টাকাকে কিভাবে কাজে লাগাতে হয় – সে বিষয়ে কিছুই জানেন না।  লেখকের মতে, আর্থিক জ্ঞান ছাড়া টাকা হলো দ্রুত উড়ে যাওয়া টাকার আরেক নাম।  টাকাকে কিভাবে কাজে লাগালে সেই টাকা আরও টাকা নিয়ে আসবে – এই বিষয়ে জ্ঞান থাকাটা ধনী হওয়ার জন্য অপরিহার্য।  এই শিক্ষা পড়াশুনার পাশাপাশি নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেও অর্জন করা যায়।

বাবা-মায়েরা যদি নিজেদের টাকা পয়সা কিভাবে আসছে, এবং তা নিয়ে তাঁরা কি পরিকল্পনা করছেন – তার কিছুটাও ছেলেমেয়ের সাথে শেয়ার করেন, তবে তারা টাকার বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠবে।

সঠিক আর্থিক শিক্ষার ফলে মানুষ বাজে খরচ করা থেকে বিরত থাকে।  শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য তারা হাজার ডলারের আইফোন কেনার বদলে ২০০ ডলারের এ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনে।

ওয়ারেন বাফেট ২০১৩ সালেও নোকিয়ার একটি ফোল্ডিং সেট ব্যবহার করতেন, কারণ দামি সেট কিনতে গেলে এই ফোনটি ফেলে দিতে হবে – এবং তাতে অর্থের অপচয় হবে। যদিও কিওসাকি তাঁর বইতে বাফেটের এই ঘটনা বলেননি – তবে ধনী মানুষদের যে মানসিকতা তিনি বইতে বর্ণনা করেছেন – তার সাথে এটি মিলে যায়। 

ধনী মানুষরা ধনী হওয়ার আগ পর্যন্ত বাজে খরচ করেন না।  যদি কোনও বিলাসী বা শখের জিনিস কেনার ইচ্ছা হয় – তবে তাঁরা অপেক্ষা করেন।  আলাদা একটি বাজেট করে তাঁরা টাকা জমাতে বা আয় করতে শুরু করেন।  অন্য খরচের জন্য রাখা টাকা, বা বিনিয়োগের জন্য রাখা টাকা থেকে কখনও তাঁরা বিলাসী জিনিস কেনেন না।  শখ মেটাতে হলে তার জন্যও একটা আলাদা বাজেট থাকে।  এই কারণে তাঁদের কখনও টাকার টান পড়ে না।

এই ধরনের মানসিকতা সৃষ্টির জন্য আর্থিক শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  সেই সাথে অন্য কেউ যেন আপনার টাকা মেরে দিতে না পারে, এবং ভুল বুঝিয়ে টাকা নষ্ট না করতে পারে – সেই জন্যও আর্থিক জ্ঞান থাকাটা জরুরী।

এই অধ্যায়ে ট্যাক্স, মার্কেটিং, এ্যাকাউন্টিং, বানিজ্যিক আইন – ইত্যাদি বিষয়ে যতটা পারা যায় জেনে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, লেখক রবার্ট কিওসাকি।

লিসন: ০৩. নিজের ব্যবসা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে

মানুষ টাকা আয়ের জন্য দুই ধরনের কাজ করে, চাকরি আর ব্যবসা।  চাকরি মানে অন্যের জন্য খাটা, আর ব্যবসা মানে নিজের জন্য খাটা।

সাধারণ ভাবে মনে হয় ব্যবসার থেকে চাকরিতে ঝুঁকি কম।  কিন্তু সত্যি কথা বলতে চাকরির ঝুঁকি অনেক বেশি।  আপনি যদি শুধু একটি চাকরির ওপরই আর্থিক ভাবে নির্ভরশীল হন, তবে আপনি সব সময়েই একটা ভয়ের মাঝে থাকবেন।

চাকরি চলে গেলেই আপনি বিপদে পড়বেন।  হাতে যদি জমানো টাকা থাকে, তা-ও এক সময়ে শেষ হয়ে যাবে।  কাজেই শুধু টাকা জমালেই নির্ভয় হওয়া যায় না। 

অন্য দিকে আপনার যদি একাধিক জায়গায় বিনিয়োগ থাকে, যেখান থেকে নিয়মিত আপনার আয় হচ্ছে, তখন আপনি নির্ভয়ে আপনার যেটা ভালো লাগে সেটা করে যেতে পারবেন।  আপনি যদি চাকরিও করেন, তাহলেও চাকরির কাজটি অনেক শান্তিতে করতে পারবেন।  ভয় থেকে নয়, কাজের আনন্দের জন্য কাজ করতে পারবেন।

আপনি যে চাকরিই করেন না কেন, সব সময়ে সেই বেতন থেকে কিছু টাকা আলাদা করে রাখবেন।  এবং ভালো একটি অংকের টাকা জমা হলে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজবেন। 

এছাড়াও আপনার যদি এমন কোনও যোগ্যতা থাকে, যা দিয়ে আপনি এমন কিছু বানাতে পারেন, যা আপনার জন্য অর্থ আয় করবে – তবে চাকরির পাশাপাশি সেইদিকেও মনোযোগ দিন।

লেখকের মতে, রিয়েল এস্টেট, বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, স্টক, সৃষ্টিশীল কাজের রয়্যালিটি (লেখা, গান – ইত্যাদি) – এগুলো একজন চাকরিজীবির জন্য ভালো বিনিয়োগ হতে পারে। 

একজন মানুষ যদি চাকরির কাজটি ভালোমত করে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের ব্যবসা নিয়েও মাথা ঘামায়, তবে একটা সময়ে গিয়ে সে অবশ্যই আর্থিক ভাবে স্বাধীন হতে পারবে।  অর্থা‌ৎ, টাকার জন্য আর অন্যের ওপর তার নির্ভর করতে হবে না।  ধনী হওয়ার প্রথম চিহ্ন আসলে এটাই। 

বেশিরভাগ গরিব ও মধ্যবিত্ত মনে করে, সুযোগ পেলে তারাও বড়লোক হতে পারবে।  কিন্তু সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে জীবন পার হয়ে যায়।  সুযোগ যে তাদের সামনেই আছে – তা তারা বুঝতেও পারে না।

লিসন০৪:  ট্যাক্স এবং কর্পোরেশনের ব্যবহার

গরিব ও মধ্যবিত্তরা যখন ট্যাক্স ও অন্যান্য আর্থিক নিয়মের কারণে বিপদে পড়ে, ধনীরা সেই নিয়মকেই কাজে লাগিয়ে নিজেদের সম্পদকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ধনীদের সাথে গরিব ও মধ্যবিত্তদের একটি বড় পার্থক্য হলো, ধনীরা প্রথম থেকেই নিজের সবকিছুর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেয়।  তারা অন্যকে দোষ দেয়ার বদলে নিজের সমস্যা নিজে সমাধান করার চেষ্টা করে।

ইনকাম ট্যাক্স বেশি হলে মধ্যবিত্তরা যখন সরকারি কর ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ করে, তখন ধনীরা কিভাবে সেই ব্যবস্থার ফাঁক বের করে নিজের ট্যাক্স কমানো যায় – তা জানার চেষ্টা করে।

রবার্ট কিওসাকি লিখেছেন, রিচ ড্যাড রবিন হুডকে ঘৃণা করতেন।  মধ্যযুগের এই ইংলিশ ‘হিরো’ ধনীদের সম্পদ লুঠ করে গরিবদের বিলিয়ে দিতেন।  তাঁর ধারণা ছিল, রবিন হুড আসলে গরিবদের উপকার করার বদলে ক্ষতি করতো।  মানুষের যখন বিনা কষ্টে পাওয়ার অভ্যাস হয়ে যায়, তখন সে কাজ করতে চায় না।  

যারা সারাজীবন গরিব থেকে যায় – তারা আসলে ভাবে, ধনীদের সম্পদ থেকে তাদের দেয়া উচি‌ৎ।  যদিও ধনীদের এটা করা উচি‌ৎ, কিন্তু গরিবদের এটার আশায় বসে থাকা উচি‌ৎ নয়।

অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় বসে থাকার কারণেই মধ্যবিত্ত আর গরিবরা সারাজীবন গরিব আর মধ্যবিত্ত থেকে যায়। 

একজন মানুষ, যে ভবিষ্যতে ধনী হবে – তার মধ্যে নিজের কাজ নিজে করার, ও নিজের সমস্যার সমাধান নিজে করার অভ্যাস অবশ্যই থাকবে।

একজন ধনী যদি দেখে ট্যাক্স দিতে গিয়ে তার বেশি খরচ হচ্ছে, সে একজন ভালো এ্যাকাউন্টেন্ট অথবা ইনকাম ট্যাক্স উকিলকে ডেকে পরামর্শ চাইবে, সেই সাথে নিজেও বিষয়টি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবে।  এবং এমন একটা উপায় বের করবে, যাতে করে তার ট্যাক্স কম দিতে হয়।

কর্পোরেশনের শক্তি:

রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বই এর এই অধ্যায়ে রবার্ট কিওসাকি ট্যাক্স ও আইনের হাত থেকে বাঁচতে কর্পোরেশন গড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।  কর্পোরেশন হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একটি সত্ত্বা থাকবে।  অর্থা‌ৎ সরকারের চোখে, সে একজন ব্যক্তির মতই হবে।  তার নিজস্ব সম্পদ ও ট্যাক্স থাকবে।

ব্যক্তিগত কর বা ট্যাক্স ব্যক্তির আয়ের ওপর ধরা হয়।  যেমন আপনার আয় যদি হয় মাসে ৫০,০০০ টাকা, তবে সেই পুরো টাকার ওপর ট্যাক্স ধরা হবে।  অন্যদিকে একটি কর্পোরেশনের ওপর তার সব খরচ বাদ দিয়ে ট্যাক্স ধরা হয়।

যদি একটি কর্পোরেশন বা বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আয় হয় ৫০,০০০ টাকা, এবং খরচ হয় ২০,০০০ টাকা – তবে (৫০-২০) ৩০,০০০ টাকার ওপর ট্যাক্স ধরা হবে। 

ধনীরা এই বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে তাদের ট্যাক্স কমিয়ে নেন।  এছাড়াও আরও অনেক উপায়ে আইন না ভেঙে কম ট্যাক্স দেয়া যায়।  ধনীরা সেই উপায়গুলো কাজে লাগান।

এখানে লেখক ট্যাক্স আইনকে নিজের সুবিধায় ব্যবহার করার পাশাপাশি, ধনী আর সাধারণ মানুষের দায়িত্ব নেয়ার মানসিকতায় পার্থক্য তুলে ধরেছেন।  সাধারণ মানুষ যেখানে অভিযোগ করে, ধনীরা সেখানে সুযোগ খুঁজে বের করেন।

লিসন ০৫: ধনীরা কিভাবে টাকা সৃষ্টি করে

লেখকের মতে, প্রতিটি মানুষ কোনও না কোনও প্রতিভা নিয়ে জন্মায়।  কিন্তু আত্মবিশ্বাসের অভাব আর আর ভয়ের কারণে বেশিরভাগ মানুষই সেই প্রতিভাবে বিকশিত করতে পারে না।

বিশেষ করে গরিব বা মধ্যবিত্ত সমাজে সন্তানের বিশেষ প্রতিভাকে নেগেটিভ ভাবে দেখা হয়।  একটি ছেলে যদি ভালো ছবি আঁকে, গান গায়, অথবা তার অন্য কোনও ট্যালেন্ট থাকে – বাবা-মা জোর করে তার ভেতর থেকে সেই ট্যালেন্ট বিদায় করার চেষ্টা করেন।  কারণ তাঁদের মনে হয়, এসব করে কিছু হবে না।  তাঁরা চান তাঁদের সন্তান ভালোকরে পড়াশুনা করে একটি চাকরি জুটিয়ে নিক।

এই মানসিকতার পেছনে থাকে নিরাপত্তাহীনতার ভয়।  বড় কিছু করতে গেলে ঝুঁকি নিতে হয়।  ঝুঁকি যত বড়, সাফল্যও তত বড়।

রবার্ট কিওসাকি যখন তাঁর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর নিজের বাবা অর্থা‌ৎ পুওর ড্যাড বিভিন্ন ভাবে ছেলেকে বিরত করার চেষ্টা করেছিলেন।  কিন্তু রবার্ট রিচ ড্যাডের পরামর্শমত ঝুঁকি নিয়েছিলেন, এবং এতটাই সফল হয়েছিলেন যা পুওর ড্যাড কল্পনাও করতে পারেননি। 

গরিব ও মধ্যবিত্ত মানসিকতার লোকেরা ঝুঁকি নিতে দারুন ভয় পান।  তাঁরা তাঁদের “কমফোর্ট জোন” বা নিরাপত্তা বলয় ছেড়ে বের হতে চান না।  তাঁদের সন্তানদেরও বের হতে দিতে চান না।  কারণ তাঁরা সব সময়ে নেগেটিভ ফলাফল নিয়ে বেশি চিন্তা করেন।  তাঁরা মনে করেন, মানুষ যতই চেষ্টা করুক, ভাগ্যে না থাকলে কিছুই হবে না।

অন্যদিকে, ধনীরা বিশ্বাস করেন, যদি কেউ চেষ্টা করে তবে ভাগ্যও তাকে সাহায্য করে।

অর্থা‌ৎ, গরিব বা মধ্যবিত্ত মানসিকতার মানুষজন যে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে ভয়ের কারণ হিসেবে দেখে, ধনী মানসিকতার মানুষেরা সেই একই বিষয়কে আশার উ‌ৎস হিসেবে দেখেন।

গরিব ও মধ্যবিত্ত মানসিকতার মানুষ পরিশ্রম করে টাকা রোজগার করার চিন্তা করে।

আর ধনী মানসিকতার মানুষ বুদ্ধি ও শ্রম দিয়ে টাকা সৃষ্টি করার চিন্তা করে।  তারা এমন উপায় বের করার চেষ্টা করে, যাতে নিজে না কাজ করেও টাকা আয় করা যায়।

লেখক এই অধ্যায়ে শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।  যারা মনে করে শিক্ষা আসলে টাকা রোজগার করার উপায়, তারা কখনও টাকা সৃষ্টি করতে পারে না।  লেখকের মতে, শিক্ষা হচ্ছে জগতকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারার ও যে কোনও বিষয় নিয়ে গভীর চিন্তা করে সমাধান বের করার উপায়।

একজন শিক্ষিত মানুষ যদি তার শিক্ষাকে টাকা রোজগারের উপায়, অর্থা‌ৎ শিক্ষাকে একটি প্রোডাক্ট বানিয়ে ফেলে, তবে সেই শিক্ষার আসল ক্ষমতা সে ব্যবহার করতে পারবে না।

অন্যদিকে শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে যে মানুষটি সুযোগ চিনে নেয়ার, ও তাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে – সে ধনী হয়ে ওঠে।

একজন মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ যদি সারাজীবন মার্কেটিং এর চাকরি বা সেই বিষয়ে শিক্ষকতাই করে যায় – তবে সে তার শিক্ষাকে বিক্রি করে সে শুধু টাকা রোজগারই করল, কিন্তু শিক্ষাকে ব্যবহার করে টাকা সৃষ্টি করতে পারলো না।

একই ভাবে একজন দারুন এ্যাকাউন্টেন্ট যদি সারাটা জীবন অন্যের অধীনেই কাজ করে যায়, তবে সে তার শিক্ষাকে নষ্ট করলো।  কারণ টাকা কিভাবে তৈরী হয়, সেটা এ্যাকাউন্টেন্টদের চেয়ে ভালো কেউ জানে না।

ধনীরা প্রথম জীবনে যে কাজই করুক, তার মাথায় থাকে সে এক সময়ে নিজেই টাকা বানাবে, মানে টাকার জন্য সে কারও ওপর নির্ভর করবে না। 

সে যে চাকরিই করুক, সেখান থেকে পাওয়া টাকার একটা অংশ সে সব সময়ে জমিয়ে রাখবে।  তারপর সুযোগ বুঝে বিনিয়োগ করবে।

রবার্ট কিওসাকি নিজেও প্রথম জীবনে বেশ কয়েকটি চাকরি করেছেন। শেষদিকে তিনি একটি ফটোকপি মেশিন কোম্পানীতে কাজ করতেন।  একটা সময়ে তাঁর দারুন আয় হতে শুরু করল।  সবাই বলাবলি করতে লাগলো, কোম্পানীতে তাঁর ভবিষ্য‌‌ৎ খুবই উজ্জ্বল।  কিন্তু রবার্ট যখন দেখলেন ব্যবসা করার যন্য তাঁর হাতে যথেষ্ঠ টাকা জমে গেছে, তিনি চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নেমে পড়লেন।  কারণ তাঁর টার্গেট ছিল, টাকা সৃষ্টি করা, টাকা আয় করা নয়।

লিসন ০৬: টাকার জন্য কাজ করার বদলে শেখার জন্য কাজ করা কেন প্রয়োজন

এই অধ্যায়ে লেখক ধনী হওয়ার জন্য যেসব বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হয় – সেই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

যে কোনও শিক্ষা আর দক্ষতা দিয়েই টাকা আয় করে জীবন চালানো যায়, কিন্তু সত্যিকার ধনী হওয়ার জন্য কিছু বিশেষ দক্ষতা ও মানসিকতার প্রয়োজন।

লেখক এই অধ্যায়ে ইংরেজী সাহিত্যে মাস্টার্স শেষ করা এক তরুণীর উদাহরণ দিয়েছেন।  এই তরুণী পড়াশোনা শেষ করার পর একটি কোম্পানী থেকে সেলস এ কাজ করার অফার পায়।  তাকে সরাসরি ক্রেতাদের সাথে দেখা করে পন্য বিক্রয় করতে হবে।

এই অফার পেয়ে খুশি হওয়ার বদলে সে রীতিমত অপমান বোধ করে।  এত পড়াশুনা করে মানুষের কাছে গিয়ে প্রোডাক্ট বিক্রি করাটা তার জন্য যোগ্য কোনও কাজ বলে তার মনে হয়নি।

লেখক বলেন, এই ধরনের মানসিকতা থাকলে একজন মানুষ কখনওই ধনী হতে পারবে না।

আপনি যেভাবেই ধনী হতে চান না কেন, আপনাকে মানুষের সাথে যোগাযোগ করে তার কাছে নিজের আইডিয়া ও পন্য গ্রহণযোগ্য ভাবে তুলে ধরা শিখতেই হবে।

ধনীরা ইমোশনাল চিন্তার চেয়ে প্রাকটিক্যাল বা বাস্তবধর্মী চিন্তা বেশি করেন। 

একজন মধ্যবিত্ত যখন মনে করেন যে মানুষের কাছে গিয়ে পন্য বিক্রি করা তাঁর সামাজিক স্ট্যাটাসকে নিচে নামাবে; একজন ধনী মানসিকতার মানুষ চিন্তা করেন যে, আজ মানুষের কাছে গিয়ে পন্য বিক্রি করলেও, কাল আমি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাব।

লেখক বলেন, আপনি যে বিষয়েই পড়াশুনা করেন না কেন, তার পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট, হিসাবরক্ষণ, অর্থ ব্যবস্থাপনা – ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন।  সেই সাথে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন, সব ধরনের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারার দক্ষতাকে।

তাঁর মতে, অনেক মানুষ প্রচুর জ্ঞান ও দক্ষতা থাকার পরও আর্থিক ভাবে বড় হতে পারেন না, কারণ কিভাবে টাকা বানাতে হয় – সেই ব্যাপারে তাঁদের জ্ঞান খুবই কম।

কিওসাকির মতে, যারা ধনী হতে চায়, তাদের সবারই উচি‌ৎ জীবনের প্রথমে টাকার জন্য কাজ না করে, টাকা বানাতে যেসব দক্ষতা লাগে, সেগুলো শেখার জন্য কাজ করা।

আপনি যত ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যত বড় ডিগ্রী নিয়েই বের হন না কেন, ধনী হতে চাইলে আপনাকে একদম নিচু স্তর থেকে কাজ শেখার জন্য তৈরী থাকতে হবে। 

আপনি যে চাকরি করছেন, সেখান থেকে ইনভেস্ট করার মত যথেষ্ঠ টাকা পাচ্ছেন না? আরেকটি ছোট কাজ করুন।  দরকার হলে ওয়েটার বা এই ধরনের কোনও কাজ বেছে নিন।

লেখক বোঝাতে চান, সব ধরনের মিথ্যা লজ্জা আর অহঙ্কার বাদ দিয়ে, যেটা যখন শেখা প্রয়োজন – সেটা শিখতে হবে।  তা না হলে, সারাজীবন অন্যের টাকা আর পেনশনের আশায় বসে থাকতে হবে।

ধনী হওয়ার পথে ৫টি মানসিক বাধা:

৬টি মূল লিসন বর্ণনা করার পর লেখক বইয়ে আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

লেখকের মতে ৫টি স্বভাব মানুষকে ধনী হওয়ার মত মানসিকতা গড়ে তুলতে বাধা দেয় : ভয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব, আলস্য, বদ অভ্যাস, অহঙ্কার।

ভয়:

লেখক বলেন, ভয় মানুষের একটি স্বাভাবিক আবেগ।  সাহসীরাও ভয় পায়।  কিন্তু তারা ভয় পেলেও এগিয়ে যায়।  আর ভীতুরা ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায়।  বড় কিছু করতে গেলে ঝুঁকি থাকবেই, কিন্তু তার জন্য পিছিয়ে গেলে কোনওদিনই বড় কিছু করা হবে না।

আত্মবিশ্বাসের অভাব:

যেসব মানুষের আত্মবিশ্বাস নেই, তারাই নিজের ক্ষমতার ব্যাপারে সন্দেহ করে।  আপনি একটা কিছুর ব্যাপারে না-ই জানতে পারেন, কিন্তু শিখতে বাধা কোথায়? এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা কোনও একটি প্রোডাক্ট নিজেই খুব ভালো বানাতে পারেন, কিন্তু তবুও তাঁরা অন্যের অধীনে কাজ করেন।  এর কারণ তাঁরা আত্মবিশ্বাসী নন।

অনেকেই হয়তো এমনটা ভাবেন: “আমি প্রোডাক্ট বানাতে পারলেও, মার্কেটিং, ট্যাক্স – এসব তো বুঝি না”

এই ধরণের মানুষদের আসলে আত্মবিশ্বাসের অভাব।  মধ্যবিত্তদের মাঝে এই ধরনের মানসিকতা বেশি দেখা যায়।  একজন ধনী মানসিকতার মানুষ যদি দেখেন যে তিনি একটি প্রোডাক্ট বানাতে পারেন, তখন ব্যবসা করার জন্য অন্য যেসব জিনিস শেখার দরকার – সেগুলোও শিখতে শুরু করেন।  তাঁরা বিশ্বাস করেন, প্রয়োজনীয় সবকিছু শেখার মত ক্ষমতা তাঁদের আছে।

আলস্য:

লেখকের মতে, ধনী হওয়ার ৩য় মানসিক বাধাটি হলো আলস্য।  আলস্যের কারণে মানুষ পরিশ্রম করতে চায় না।  দক্ষতা থাকলেও সেই দক্ষতাকে কাজে লাগায় না।

হয়তো কারও যোগ্যতা আছে মাসে ৫০০০০ টাকা আয় করার কিন্তু আলস্যের কারণে সে মাত্র ২০০০০ টাকা আয় করে।

সেই সাথে অনেকেই আলস্যের কারণে, আজ করি-কাল করি করতে করতে নিজের ব্যবসা শুরুই করতে পারে না।

যার মাঝে ধনী হওয়ার সত্যিকার ইচ্ছা আছে, সে কখনও আলস্যকে প্রশ্রয় দেবে না।  যে কাজ যতটুকু করা দরকার, যখন করা দরকার – সেভাবেই কাজ করবে।  আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখবে না। 

বদ অভ্যাস:

লেখকের মতে, ধনী হওয়ার পথে প্রধান আরেকটি মানসিক বাধা হলো বিভিন্ন ধরনের বদ অভ্যাস।  অনেকেই বদ অভ্যাসের কারণে আয় করা টাকা ঠিকমত কাজে লাগাতে পারে না।

একজন মানুষের যদি দিনে ১০০ টাকা বাজে খরচ হয়, মাসের শেষে তা ৩০০০ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়।  বেশিরভাগ মানুষই এভাবে নানান বাজে খরচে টাকা নষ্ট করে, এবং কাজের সময়ে টাকা হাতে থাকে না।

অহেতুক রেস্টুরেন্টে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় জিনিসের পেছনে টাকা খরচ করা – ইত্যাদি অভ্যাসের কারণে একজন মানুষ টাকা জমাতে পারে না, যে টাকা সে কোথাও বিনিয়োগ করতে পারতো।

টাকা নষ্ট করার বাইরে, দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, কাজ ফেলে রাখা, রুটিন করে না চলা – ইত্যাদি অভ্যাসও মানুষের ধনী হওয়ার পথে বাধা দেয়।

নিজের চেষ্টায় ধনী হতে চাইলে সব ধরনের বাজে অভ্যাস দূর করতে হবে।

অহঙ্কার:

কথায় বলে, “অহঙ্কার পতনের মূল”।  রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড এর লেখক রবার্ট কিওসাকির মতে, অহঙ্কার শুধু পতনের মূলই নয়, অহঙ্কার মানুষকে ওপরেই উঠতে দেয় না।

৬ নং লিসনের সেই তরুণীর কথাই ধরা যাক, যে বড় একটি ডিগ্রী নিয়েছে বলে বিক্রয় কর্মী হিসেবে কাজ করতে চায়নি।  এর পেছনে রয়েছে অহঙ্কার।

নিজের চেষ্টায় ধনী হতে গেলে অনেক কিছু শিখতে হয়।  অনেক অভিজ্ঞতা নিতে হয়, এবং অনেক ধরনের মানুষের সাথে মিশতে জানতে হয়।

আপনার হয়তো একটি পি.এইচ.ডি আছে, কিন্তু একজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্রও আপনাকে এমন কিছু শেখাতে পারে, যা সম্পর্কে আপনার কোনও ধারণাই ছিল না। 

যতক্ষণ না আপনি নিজের ভেতর থেকে সব ধরনের অহঙ্কার ঝেড়ে ফেলতে পারছেন, ততক্ষণ আপনি কিছু শিখতেও পারবেন না।  নিজের চেষ্টায় ধনী হতে চাইলে আপনাকে সব সময়ে শেখার চেষ্টা করতে হবে, সবার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করতে হবে, এবং সব ধরনের মানুষের সাথে মিশতে জানতে হবে।


জনাব কিওসাকি তাঁর রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বইতে যে ৫টি মানসিক বাধার কথা বলেছেন, এগুলো আসলে যারা সারা জীবন গরিব বা মধ্যবিত্ত থাকে – তাদের সাধারণ বৈশিষ্ট।  ধনী হতে হলে প্রথমেই এই জিনিসগুলো নিজের ভেতর থেকে বিদায় করতে হবে।

কিভাবে শুরু করবেন?

রবার্ট কিওসাকি তাঁর রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বইতে ধনী মানুষদের উঁচু করে দেখাননি, অথবা গরিব ও মধ্যবিত্তদের নিচু করে দেখাননি।  তিনি শুধু মানসিক ও ব্যবহারিক পার্থক্য তুলে ধরেছেন, এবং নিজের মানসিকতা পরিবর্তন করার উপায় বলে দিয়েছেন।

শুধুমাত্র মানসিকতার কারণেই অনেক মানুষ একদম শূণ্য থেকে কোটিপতি হয়ে গেছেন।  এবং আপনি যে অবস্থাতেই থাকুন, চেষ্টা করলে আপনিও এসব মানসিকতা নিজের মাঝে নিয়ে আসতে পারবেন।

বইটিতে আসলে ধনী বলতে টাকা ওয়ালা মানুষ বোঝানো হয়নি, এখানে এমন মানুষ বোঝানো হয়েছে, যাঁদের মাঝে ধনী হওয়ার গুণগুলো আছে।

বইয়ে বর্ণনা করা রিচ ড্যাডও কিন্তু প্রথমে ধনী ছিলেন না, কিন্তু তাঁর মানসিকতা ছিল ধনী হওয়ার জন্য আদর্শ। এই মানসিকতা তিনি নিজের মাঝে সৃষ্টি করে নিয়েছিলেন। 

নিজের মাঝে ধনী হওয়ার মানসিকতা সৃষ্টির শুরুটা কিভাবে করবেন, সেই বিষয়ে বইয়ের শেষ দিকে লেখক কিছু টিপস দিয়েছেন:

০১. মোটিভেশন:

আপনাকে কেন ধনী হতে হবে? – এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে বের করাটা ধনী হওয়ার মানসিকতা অর্জনের জন্য সবচেয়ে জরুরী।

শক্তিশালী মোটিভেশন বা অনুপ্রেরণা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। 

লেখক বইতে লিখেছেন, পুওর ড্যাড নিজের সন্তানকে বলতেন, “তোমাদের জন্য আমি আজ গরিব হয়ে গেছি”, অন্যদিকে রিচ ড্যাড নিজের সন্তানকে বলতেন, “তোমাদের জন্য আমাকে ধনী হতে হবে”

দুইজনের পরিস্থিতি এক হলেও দু’জনের দৃষ্টিভঙ্গী সম্পূর্ণ আলাদা।  একজন পরিবারকে দেখছেন বাধা হিসেবে, আরেকজন দেখছেন অনুপ্রেরণা হিসেবে।

আপনাকেও এমন একটি অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে হবে।  আপনার অনুপ্রেরণা হতে পারে নিজের বাবা-মাকে সুখী করা, অথবা নিজের সন্তানের জন্য একটি প্রাচুর্যপূর্ণ ভবিষ্য‌ৎ গড়া।  পৃথিবীর অনেক বড় বড় ধনী মানুষ আছেন, যাঁরা নিজের কষ্ট সন্তানকে দিতে চান না বলে ধনী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

যেটাই হোক, প্রথমেই আপনাকে একটি অনুপ্রেরণা দাঁড় করাতে হবে।

০২. মনকে শক্ত করা:

আপনি যখন ধনী হওয়ার চেষ্টা শুরু করবেন, তখন দেখবেন চারিদিক থেকে বহু মানুষ বহু কথা বলছে।  এমনকি আপনাকে নিয়ে তামাশাও করছে।  কিন্তু আপনার মনকে শক্ত রাখতে হবে।  যারা কারও ধনী হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে তামাশা করে – তারা আসলে নিরাশ ধরনের মানুষ।  এরা নিজেরা চেষ্টা করে না, অন্যের চেষ্টার গুরুত্বও বোঝে না।

এছাড়া, সাময়িক ব্যর্থতা আসলেও হতাশ না হয়ে কাজ করে যাওয়ার মত মানসিকতা নিজের মাঝে রাখতে হবে।

সব সময়ে পজিটিভ চিন্তা করতে হবে।  সব সময়ে মনে রাখতে হবে, এখন সময় কঠিন হলেও, নিজের কাজ করে গেলে, একটা সময়ে সাফল্য আসবেই।

০৩. সঠিক বন্ধু নির্বাচন করুন:

আপনি কাদের সাথে চলছেন, তা আপনার ভবিষ্যতের ওপর দারুন প্রভাব ফেলে।

যখনই আপনি ধনী হওয়ার পথে চলার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন থেকেই এমন মানুষের সাথে চলার চেষ্টা করুন, যারা নিজেরাও ধনী হতে চায়।  আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী ও দক্ষ মানুষের সাথে চলার চেষ্টা করুন, যাতে তাদের থেকে আপনি শিখতে পারেন, এবং আপনার উন্নতি হয়।  যারা ব্যবসা জগতের খোঁজ খবর রাখে, তাদের সাথে চলতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।

০৪. পড়াশুনা করুন:

ধনী হতে হলে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরী।  বিশেষ করে আপনি যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসে বিনিয়োগ করছেন, এবং সেই সাথে ট্যাক্স, বানিজ্যিক আইন, নতুন প্রযুক্তি – ইত্যাদি বিষয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হবে।

আপনার যদি ব্যবসা বিষয়ে পড়াশুনা না থাকে, তবে মার্কেটিং, এ্যাকাউন্টিং, বিনিয়োগ – ইত্যাদি বিষয় নিয়ে একে একে পড়াশুনা করতে হবে।  এই বিষয়গুলো না বুঝলে ব্যবসা বা বিনিয়োগ করাটা কঠিন।

০৫. কৃপণতা বাদ দিন:

টাকা পয়সা জমানোর মানে কিন্তু কৃপণ হয়ে যাওয়া নয়।  লেখক প্রয়োজনের জায়গায় যথেষ্ঠ টাকা খরচ করতে উ‌ৎসাহ দিয়েছেন।  এই অভ্যাস করতে পারলে আপনি বিনিয়োগ করতে ভয় পাবেন না।  ব্রোকারকে ভালো বকশিশ দিলে, পরে সে আপনার জন্য আরও ভালো ডিল নিয়ে আসবে।

০৬. আইডল রাখুন:

আপনি যে ক্ষেত্রেই সফল হতে চান না কেন, একজন মানুষকে আদর্শ ধরে নিলে আলাদা উ‌ৎসাহ পাওয়া যায়। সেই সাথে লক্ষ্য যত কঠিনই হোক না কেন, একটা অন্যরকম বিশ্বাস পাওয়া যায়। 

আপনার মত অবস্থা থেকে, বা আপনার চেয়েও খারাপ অবস্থা থেকে উঠে আসা কোনও মানুষকে আইডল ধরে এগুলে সব সময়ে একটা আত্মবিশ্বাস আপনার মাঝে বজায়ে থাকবে।  সব সময়ে মনে হবে, “তিনি পারলে, আমিও পারব”

শেষ কথা:

পুরো বইটিতে লেখক একটি বিষয় খুব ভালো করে বোঝাতে চেয়েছেন, ধনী হওয়ার আগে ধনী হওয়ার মানসিকতা অর্জন করা জরুরী।

মধ্যবিত্ত ও গরিব মানসিকতা ছেড়ে ধনী হওয়ার মানসিকতা নিজের মধ্যে আনতে পারলে, যে কারও পক্ষে ধনী হওয়া সম্ভব।

লেখক সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন, নিজের জন্য কাজ করার মানসিকতার ওপর।

অর্থের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর না করে যখন আপনি নিজেই নিজের জন্য অর্থ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেবেন, তখনই বুঝতে হবে আপনি ধনী হওয়ার পথে রয়েছেন।

আর সেই পথে চলতে হলে কিভাবে নিজের মানসিকতাকে গড়ে তুলতে হবে, সেটাই লেখক এই বইয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

আর আমরা চেষ্টা করেছি, যতটা সংক্ষেপে পারা যায়, আপনার সামনে রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বইটির মূল কথা তুলে ধরতে।

এই লেখা পড়ে বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে যদি আপনি একটি পরিস্কার ধারণা পান, তবেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক।

সেই কাজে আমরা কতটা সফল হয়েছি তা অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের জানাবেন। 

আর যদি মনে হয় লেখাটি পড়ে অন্যরাও উপকৃত হবেন, তাহলে শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন। 

এই ধরনের আরও লেখার জন্য আমাদের সাথে থাকুন। সাফল্যের পথে, সব সময়ে, লড়াকু আপনার সাথে আছে।

What A SEO Consultant Should Deliver

What should a SEO consultant deliver?  There are many opinions when it comes to search engine optimization, but for businesses it comes down to real results. I’ve spoken to countless business owners who knew they needed SEO, but partnered with an “expert” that left them worse off than when they started. In this video, I’ll share what every SEO consultant should deliver to their clients. Whether you are a business owner looking for help or an agency delivering services, this video outlines some baseline expectations

 Video Transcript:


Hey, thanks for checking out this video. If this is your first time watching or maybe even watching a while and haven’t yet hit subscribe, please do so now. We would love to have you join our community and don’t forget to turn on alerts so you’re notified every time we post a new video. 

So today we’re going to be talking about what an SEO consultant or agency should be delivering for your business. Unfortunately, in the 10 years that I’ve been in this industry, I’ve encountered quite a few people who have hired an SEO company or agency and they have been less than impressed with the results that they’ve received. A lot of them have felt that they’ve been taken advantage of. A lot of them have felt like the company did a lot of terrible things for their website. And while that does happen, SEO is still extremely important.

If you want your site to rank, if you want to get targeted visitors using the most powerful engine in the world, Google search, you need to have your site optimized for search and here’s a few things that you should look out for or you need to make sure you’re getting from your SEO agency and consultant. 

The first thing is visibility. SEOs are hired to optimize your site for search. If your site isn’t getting more impressions, if you’re not seeing more visibility of your brand online, then something’s not happening. Now, there could be a lot of things going on. Now, the SEO may have just gotten started, which means the results aren’t coming yet, or if they’ve been with you a while and you haven’t seen anything happen as far as visibility goes, you really should be wondering whether or not they’re doing the things that need to be done in order for you to grow your site traffic.

Now this is where Google Search Console is a powerful tool. With that tool. You can see that your site is getting impressions, which means people are seeing your site links in the search results. If they’re not, if there are no impressions happening, it means you don’t have any visibility or much visibility. If it’s not growing over time and there’s a lot of work being put into it, you know that something could be wrong. So make sure you pay attention to that because visibility is the name of the game, but it’s more than just getting visibility.

It’s also about getting targeted traffic. This means people actually coming to your website. Again, using a tool like Google Search Console, you can not just see impressions, but you can also see clicks and you can start to map those clicks back to Google Analytics. This will tell you, hey, people are not only seeing my links, they’re clicking on my links and they’re visiting my website.

From there, you can start to see if they taking those desired actions. Are they making those steps towards becoming a customer or engaging with your brand? So an SEO is not only going to help you get more visibility. They are going to help you optimize your site for targeted traffic, making sure that people are going to click through and visit your website.

Now, three other things that SEOs should be providing for you go a little bit deeper. They should be able to give you deep insights. They should be able to help you understand how Search Console works, what’s going on in those reports. What do impressions mean? What does the average rank mean? What does the click through rate mean, and can we go a little bit deeper and look at things like your crawl stats. Do you have structured data on your website? SEOs should be able to walk you through those different processes and help you better understand holistically how your website is doing when it comes to ranking in search and driving traffic from search. They should be able to help you with your reporting and understanding Google Analytics and what’s happening with those organic users as they move through your website and engage with your content.

SEOs should also be looking for opportunities. This is not a static industry. SEO isn’t a set it and forget it process. You don’t hire somebody one time to improve your titles and your meta and maybe optimize a few images and say, “Hey, thanks. It was really great for that work you’ve done. I’ll see you later.” Search engines are always changing, they’re always updating. They’re always growing and because of that, SEOs need to be looking for new opportunities in order to grow their own sites as well as their clients’ sites in search. This means not sitting back and only doing the basics and letting everything else go away or trying to do these outdated strategies that don’t work anymore.

There’s a lot of people out there doing things that downright are not effective, but they do them because that’s what they know to do, but an SEO should always be up to date and looking for new opportunities to grow their client’s business and if they’re doing that, the client will see results and then hopefully reinvest with that agency or company. 

Ultimately, SEOs should be providing ROI. If you’re not getting ROI, if you’re not getting money back from the investment you’re putting in as a business owner, you should really start to question whether or not this is a good business investment or this is the company you should be working with.

Now, an SEO isn’t responsible for your sales. They’re not responsible for all of the UX or the or the customer experience, unless you’ve hired them to do that. They’re not responsible for a lot of the after that somebody comes to your site process, but at the same time, if they’re not driving qualified traffic to your website, then you’re not going to get qualified leads.

So whether you’ve hired an SEO right now and you’re wondering what’s going on, there’s a lot going on. Ask them about some of these questions. See if they can give you a more details. If they answer them, great. You should stay with that company and continue to invest with that and watch your profits soar. 

If you’re looking to hire an SEO company, these are things you really want to look at. Are they able to do this for their clients? Do they have case studies proving that they can grow visibility? Can they grow targeted traffic? Can they show you how they’re using data and the things that they’re doing? Can they show you how they’ve not only grown people’s traffic, but help businesses grow and get real business results? It’s what we talk about. You know, the dollars and the cents, the things that matter to the C level.

If an SEO company can do all these things, you’re going to have great success. If you’ve got any questions on SEO or maybe you’re looking for an agency yourself, please comment below. We’d love to help you out and until next time, Happy Marketing